সোমবার , ১৮ মে ২০২৬
Monday , 18 May 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

খেলা

প্রকাশিত: ১৮:০৫, ১৮ মে ২০২৬

মুশফিকের রেকর্ডগাথা ও সিলেটের উইকেট, পাকিস্তানের সামনে ’মিশন ইম্পসিবল’

মুশফিকের রেকর্ডগাথা ও সিলেটের উইকেট, পাকিস্তানের সামনে ’মিশন ইম্পসিবল’

অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড গড়া ১৩৭ রানের রাজকীয় ইনিংসের ওপর ভর করে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের পর্বতসমান লক্ষ্য দাঁড়িয়ে করেছে বাংলাদেশ। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিডসহ জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ৪৩৭ রান, যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেই এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ। টেস্টে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জেতার বিশ্বরেকর্ড রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সিলেটের চেনা উইকেটে স্পিনাররা নিজেদের ছন্দ দেখাতে পারলে এক ঐতিহাসিক জয়ের সুবাস পেতে যাচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

আলোকস্বল্পতায় দিনের সমাপ্তি: পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিনের শেষভাগে পাকিস্তান কেবল ২ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পায়। আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগেই তৃতীয় দিনের খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। এই ২ ওভারে কোনো রান তুলতে পারেনি পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজান ও ফজল। বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম দুর্দান্ত বোলিংয়ে দুটি ওভারই মেডেন নেন। পাকিস্তান দিন শেষ করেছে ০ রানে কোনো উইকেট না হারিয়ে।

মুশফিকের জোড়া ইতিহাস ও রাজকীয় ইনিংস: এর আগে চা-বিরতির সময় ৯০ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিম বিরতি থেকে ফিরেই ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট শতক পূর্ণ করেন। এই সেঞ্চুরির পথেই তিনি গড়েন জোড়া ইতিহাস। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ১৬ হাজার রানের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এছাড়া এই শতকের মাধ্যমে মুমিনুল হককে (১৩টি সেঞ্চুরি) টপকে টেস্টে বাংলাদেশের এককভাবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক এখন কেবলই মুশফিক। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ২৩৩ বলে ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৩৭ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এই 'রান মেশিন'।

ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও লিটনের অবদান: আজ তৃতীয় দিনের শুরুটা অবশ্য ভালো করতে পারেনি টাইগাররা। সকালের সেশনেই খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে মাত্র ১৫ রানে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। তবে শান্তর বিদায়ের পর প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন মুশফিক। দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন খেলেন ৯২ বলে ৬৯ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।

লোয়ার অর্ডারের প্রতিরোধ: লিটন ও মেহেদী হাসান মিরাজের (১৯) বিদায়ের পর তাইজুল ইসলামকে নিয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়েন মুশফিক। সপ্তম উইকেটে এই দুজন দলীয় স্কোরে মূল্যবান ৭৭ রান যোগ করেন। তাইজুল ৫১ বলে ২২ রান করে সাজিদ খানের বলে ক্যাচ আউট হন। এরপর দলের রান দ্রুত বাড়ানোর চেষ্টায় তাসকিন আহমেদ (৬) ও শরীফুল ইসলাম দ্রুত সাজঘরে ফিরলে ৩৯০ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়