অভ্যন্তরীণ ভিসির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, রণক্ষেত্র ক্যাম্পাস
গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) বহিরাগত উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের প্রতিবাদে এবং অভ্যন্তরীণ শিক্ষককে ভিসি করার দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (১৭ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন কর্মসূচি চলাকালে ডুয়েট ও মহানগর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বহিরাগতদের সাথে নিয়ে এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
হামলা ও পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের টিয়ার শেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুরো ডুয়েট এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই সহিংসতায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
লাল কার্ড কর্মসূচিতে হামলা ও পুলিশের অ্যাকশন
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। আজ ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের টানা চতুর্থ দিন।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে নবাগত ভিসিকে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলাকালেই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বহিরাগত একদল সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত চড়াও হয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।
শিক্ষার্থীদের মূল যুক্তি ও অবস্থান
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনোভাবেই বহিরাগত ভিসি মেনে নেওয়া হবে না। তাদের দাবি:
-
স্বকীয়তা রক্ষা: ডুয়েটের বিশেষায়িত শিক্ষাকাঠামো ও অ্যাকাডেমিক পরিবেশ অন্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিন্ন। বহিরাগত কেউ এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা নষ্ট হবে।
-
প্রশাসনিক জটিলতা: মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি কার্যকর।
তাই ডুয়েটের জ্যেষ্ঠ এবং যোগ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগের দাবি তাদের।
প্রশাসনের বক্তব্য
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ডুয়েটের নতুন ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল, যা আজ সংঘর্ষে রূপ নেয়। ক্যাম্পাসের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে।




































