শাহজালাল মসজিদে ‘টেইস্ট রামাদান’
*শাহজালাল মসজিদে ‘টেইস্ট রামাদান’—সম্প্রীতির বার্তা ছড়ালো কমিউনিটি ইফতার*
ম্যানচেস্টারের ঐতিহ্যবাহী শাহজালাল মসজিদে প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবছরও পবিত্র রমাদান মাস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভিন্নধর্মী কমিউনিটি ইফতার ইভেন্ট ‘টেইস্ট রামাদান’। মুসলিম ও অমুসলিম কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করা, ভুল বোঝাবুঝি দূর করা এবং ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্য ও মানবিক বার্তা অন্য ধর্মের মানুষের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়।
গত ৮ মার্চ রোববার অনুষ্ঠিত এই ইভেন্টে বিপুল সংখ্যক মুসলিম ও অমুসলিম অতিথি অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় চার্চের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় এমপি ও কাউন্সিলরসহ এলাকার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা খায়রুল হুদা খান এবং সভাপতিত্ব করেন মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ আনসার উদ্দীন।
ইভেন্টের মূল আকর্ষণ ছিল ইসলাম ধর্ম নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব, যেখানে ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার শায়েখ বিলাল ব্রাউন। তিনি রমাদানের তাৎপর্য, আত্মসংযম, মানবিকতা এবং সমাজে শান্তি ও সহমর্মিতার শিক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং উপস্থিত অমুসলিম অতিথিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ড. আফজাল খান এমপি, কাউন্সিলর আহমদ আলী, কাউন্সিলর এশা মমতাজ, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আলহাজ মালিক সওদাগর, জয়েন্ট সেক্রেটারি শেখ জাফর আহমদ, ট্রেজারার মোহাম্মদ কামরু মিয়া, হাফিজ জুবায়ের আহমদ এবং কারী মুহিব্বুল হাসান তালহা প্রমুখ।
বক্তারা শাহজালাল মসজিদের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের আয়োজন বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
বক্তারা আরও বলেন, রমাদান শুধু মুসলমানদের জন্য রোজার মাস নয়; এটি আত্মসংযম, সহমর্মিতা, দানশীলতা এবং মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষা সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানের কর্মসূচির মধ্যে ছিল ইংরেজি অনুবাদসহ পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, মসজিদ পরিদর্শন (মসজিদ ট্যুর), রমাদানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা, মসজিদের বিভিন্ন কার্যক্রমের উপর একটি প্রেজেন্টেশন এবং ইসলাম সম্পর্কে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব। এতে অমুসলিম অতিথিরা ইসলাম সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করেন এবং আলেমরা সেগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
ইফতারের সময় অতিথিদের জন্য সুস্বাদু ঐতিহ্যবাহী খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি অতিথিদের হাতে স্মারক উপহার ও বিশেষ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে মসজিদের ইমাম হাফিয আবদুল হামিদ শাহানের সুললিত কুরআন তিলাওয়াত এবং কমিটি সদস্য রজিন খায়রুল ইসলামের হৃদয়স্পর্শী কবিতা আবৃত্তি উপস্থিত মুসলিম ও অমুসলিম অতিথিদের মুগ্ধ করে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ খায়রুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, জাকির মিয়া, হেলাল হোসাইন, আলহাজ মনসুর খান, সাব্বির চৌধুরী, আবু তাহের, সারওয়ার খানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অমুসলিম প্রতিবেশীরা মসজিদ কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য ও অতিথিপরায়ণতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাদের মতে, ইসলাম সম্পর্কে সরাসরি জানার এমন সুযোগ অত্যন্ত ইতিবাচক এবং এটি বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি করতে সহায়ক।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘টেইস্ট রামাদান’ ইভেন্ট ভবিষ্যতেও ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্য ও মানবিক বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।



































