সোমবার , ১৩ এপ্রিল ২০২৬
Monday , 13 April 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

আন্তর্জাতিক সংবাদ

প্রকাশিত: ১২:১৯, ১২ এপ্রিল ২০২৬

পানির নিচে চীনের পরমাণু দানব, টার্গেট এবার মার্কিন আধিপত্য

পানির নিচে চীনের পরমাণু দানব, টার্গেট এবার মার্কিন আধিপত্য

বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চীন এখন নির্মাণ করছে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ও উন্নত পারমাণবিক সাবমেরিন— *টাইপ-০৯৫*। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে এই সাবমেরিনটির অস্তিত্ব ধরা পড়ার পর থেকেই সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি সমুদ্রের তলদেশে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

### প্রযুক্তিতে আমূল পরিবর্তন
টাইপ-০৯৫-কে চীনের আগের সংস্করণগুলোর (টাইপ-০৯৩বি ও ০৯৪) চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক ও শক্তিশালী ধরা হচ্ছে। এর বিশেষত্বগুলো হলো:
* *বিশাল আকার:* এটি প্রায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এবং এর ওজন ৯ থেকে ১০ হাজার টন হতে পারে।
* *শব্দহীন যাত্রা:* দীর্ঘদিনের 'কোলাহলপূর্ণ' সাবমেরিনের বদনাম ঘোচাতে চীন এতে ব্যবহার করছে উন্নত *পাম্প-জেট প্রোপালশন, শব্দ প্রতিরোধী **অ্যানিকোয়িক টাইলস* এবং ইঞ্জিন কম্পন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি। ফলে এটি শনাক্ত করা শত্রুপক্ষের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে।
* *গতিশীলতা:* এতে থাকছে *এক্স-আকৃতির রাডার* এবং প্রায় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার শক্তিশালী পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, যা একে দীর্ঘ সময় পানির নিচে দ্রুতগতিতে চলতে সাহায্য করবে।

### মরণঘাতী অস্ত্র সম্ভার
সরাসরি তথ্য না থাকলেও বিশ্লেষকদের ধারণা, টাইপ-০৯৫-এ থাকছে আধুনিক *ভার্টিক্যাল লঞ্চ সিস্টেম (VLS)*।
* এতে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র *YJ-19* বা জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র *YJ-20* থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
* শত্রুর সাবমেরিন ধ্বংসের জন্য এতে আটটি টর্পেডো টিউব থাকতে পারে।
* এর সম্মুখভাগে বসানো বিশাল 'সোনার সিস্টেম' সমুদ্রের অনেক গভীর থেকে শত্রুর অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারবে।

> *বিশেষজ্ঞদের মত:* টাইপ-০৯৫ মূলত পানির নিচে যুদ্ধের (Anti-submarine warfare) জন্য তৈরি। একে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী 'সিউলফ' ক্লাসের সমকক্ষ ভাবা হচ্ছে।

---

### উৎপাদন সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা
এক সময় চীন নৌ-প্রযুক্তিতে অনেক পিছিয়ে থাকলেও গত দুই দশকে তারা অভাবনীয় উন্নতি করেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে:
1.  *নির্মাণ গতি:* ২০২২ সালের পর থেকে চীন প্রতি বছর গড়ে ৩টি করে পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরি করছে।
2.  *উৎপাদন ব্যবধান:* ২০২১-২০২৫ সালের মধ্যে চীন যেখানে ৭৯ হাজার টনের সাবমেরিন তৈরি করেছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র করেছে ৫৫ হাজার টনের। অর্থাৎ সংখ্যা এবং ওজনের বিচারে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

### ভবিষ্যৎ প্রভাব
বোহাই শিপইয়ার্ডে নির্মাণাধীন এই সাবমেরিনটি আগামী বছরের মধ্যেই সমুদ্রে নামতে পারে। চীনের এই ক্রমবর্ধমান নৌ-শক্তি বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধজাহাজ বহরকে আরও সুরক্ষা দেবে এবং বেইজিংয়ের প্রভাবকে নিজস্ব জলসীমার বাইরে প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তিতে এখনো কিছুটা এগিয়ে, তবে চীনের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়