মঙ্গলবার , ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Tuesday , 03 November 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

প্রকাশিত: ০৪:৩২, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ঘণ্টায় ১৪৩ মাইল গতিতে ল্যাম্বরগিনি দুর্ঘটনায় বন্ধুর মৃত্যু: সাজা এড়ানোর চেষ্টার অভিযোগে নারী চালক গ্রেপ্তার

ঘণ্টায় ১৪৩ মাইল গতিতে ল্যাম্বরগিনি দুর্ঘটনায় বন্ধুর মৃত্যু: সাজা এড়ানোর চেষ্টার অভিযোগে নারী চালক গ্রেপ্তার

ঘণ্টায় ১৪৩ মাইল গতিতে ল্যাম্বরগিনি দুর্ঘটনায় বন্ধুর মৃত্যু: সাজা এড়ানোর চেষ্টার অভিযোগে নারী চালক গ্রেপ্তার

ফোকাস টিভি | যুক্তরাজ্য সংবাদ | ০২ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাজ্যের এম৬২ মোটরওয়েতে ঘণ্টায় ১৪৩ মাইল গতিতে ল্যাম্বরগিনি গাড়ি চালিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বন্ধুর মৃত্যুর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে সাজা ঘোষণার দিন অসুস্থতার কথা জানিয়ে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিচার এড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী নারীর নাম হুমায়রা বাতুল। তাঁর বিপজ্জনক গাড়ি চালানোর কারণে ২০ বছর বয়সী বন্ধু মোহাম্মদ শান হোসেনের মৃত্যু হয়। ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর ভোরে ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের রিপনডেন এলাকার কাছে এম৬২ মোটরওয়েতে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে।

LBC+2

 

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাডফোর্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ শান হোসেন প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি ল্যাম্বরগিনি উরুস গাড়ি ভাড়া করেছিলেন। লিডস কারাগার থেকে এক বন্ধুকে আনতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়িটি নেওয়া হয়েছিল।

দুর্ঘটনার সময় সড়ক ভেজা ছিল এবং আবহাওয়া ছিল প্রতিকূল। এমন পরিস্থিতিতেও গাড়িটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪৩ মাইল গতিতে চলছিল। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি মোটরওয়ের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে উল্টে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়।

গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন মোহাম্মদ শান হোসেন। আশপাশের অন্য গাড়ির চালকেরা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ভয়াবহ আগুন ও বিস্ফোরণের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে যান হুমায়রা বাতুল। তবে তাঁর শরীরের প্রায় ১০ শতাংশ পুড়ে যায় এবং পায়ের হাড় ভেঙে গুরুতর আহত হন তিনি।

সিসিটিভি ফুটেজে বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা

দুর্ঘটনার পর হুমায়রা বাতুল প্রথমে দাবি করেছিলেন, ঘটনার সময় তিনি গাড়ির যাত্রী আসনে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং তাঁর বন্ধু গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

কিন্তু তদন্তকারীদের সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে একটি ট্রাফিক সিগন্যালে দুজনকে আসন পরিবর্তন করতে দেখা যায়। ফুটেজে স্পষ্ট হয়, দুর্ঘটনার সময় চালকের আসনে ছিলেন হুমায়রা বাতুল।

এই প্রমাণ সামনে আসার পর তিনি গাড়ি চালানোর কথা স্বীকার করেন। তবে তাঁর দাবি ছিল, যাত্রী আসনে থাকা মোহাম্মদ শান হোসেন গাড়ির বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নাড়াচাড়া করছিলেন, যার ফলে গাড়ির গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছিল।

আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া ল্যাম্বরগিনি বিশেষজ্ঞ এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, গাড়িতে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই যার মাধ্যমে যাত্রী আসন থেকে এভাবে গতি বাড়ানো সম্ভব। গাড়ির গতি বৃদ্ধির জন্য চালকের অ্যাক্সিলারেটর চাপ দেওয়াই দায়ী।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে লিডস ক্রাউন কোর্ট হুমায়রা বাতুলকে বিপজ্জনক গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর কারণ হওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন।

The Sun+2

 

সাজা ঘোষণার দিন আদালতে অনুপস্থিত

সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, লিডস ক্রাউন কোর্টে হুমায়রা বাতুলের সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি।

তাঁর আইনজীবীরা আদালতকে জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি জরুরি চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে গিয়েছেন। তাঁর এন্ডোমেট্রিওসিসজনিত সমস্যার অবনতি ঘটেছে বলে জানানো হয়।

তবে প্রসিকিউশনের আইনজীবী ক্রিস্টোফার ডান অভিযোগ করেন, অসুস্থতার বিষয়টি সাজা এড়ানোর একটি কৌশল হতে পারে। তিনি আদালতে বলেন, অভিযুক্ত নারী বিচারপ্রক্রিয়ায় একাধিকবার বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন।

বিচারক রে সিং জানান, উপস্থাপিত পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর মনে হয়েছে অভিযুক্ত নারী সাজা এড়ানোর চেষ্টা করছেন। এরপর তিনি হুমায়রা বাতুলকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।

হাসপাতালে গ্রেপ্তার, হেফাজতে রাখার নির্দেশ

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর হাসপাতালে থাকা অবস্থায় হুমায়রা বাতুলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে আদালতে হাজির করা হয়।

বিচারক তাঁকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের আশঙ্কা ছিল, মুক্তি দেওয়া হলে তিনি পুনরায় হাজিরা এড়িয়ে যেতে পারেন।

প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরদিন তাঁর সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে।

LBC+2

 

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মাত্র ২০ বছর বয়সে মোহাম্মদ শান হোসেনের মৃত্যু তাঁর পরিবার ও স্বজনদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, অতিরিক্ত গতি এবং বিপজ্জনক গাড়ি চালানোর পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। একটি মুহূর্তের বেপরোয়া সিদ্ধান্ত কেড়ে নিতে পারে একটি সম্ভাবনাময় জীবন।

ফোকাস টিভি | যুক্তরাজ্য

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

আরও পরুন: