মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভে তাজকিয়ায়ে নফস অর্জনে গুরুত্বারোপ করতে হবে ---মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী
বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর সভাপতি হযরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো, আমরা যেন আল্লাহর রশ্মি থেকে সরে না যাই। কেননা মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হলো আল্লাহর নৈকট্য। জীবন সম্পর্কে সমুজ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি হেদায়াত। যে যত আগে এই হেদায়াত লাভ করেছে সে সফলকাম হয়েছে। সেজন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আমরা যে যেখানে থাকবো সেখানেই আল্লাহর কথা সবসময় স্মরণ রাখবো। ইলমে তাসাউফের সারসংক্ষেপ হলো, যার মধ্যে আল্লাহর ইশক ও ভয় এবং হুব্বে রাসূল যত বেশি, তার মর্যাদা ও স্থান তত বেশি উপরে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য আখেরাত। বেহেশত এমন স্থান যেখানে আল্লাহর দীদার নসীব হবে। সেখানে বিভিন্ন স্তর রয়েছে। দুনিয়ার আমল অনুযায়ী মুমিনরা সেখানে বিভিন্ন স্তরে অবস্থান করবেন। সেখানে কেউ প্রতি সপ্তাহে একবার, কেউ প্রতিদিন একবার মহান আল্লাহর দীদার লাভ করবেন; আর সৌভাগ্যবানরা প্রতি মুহূর্তে দীদারে এলাহি লাভ করবেন।
তিনি বলেন, ঈমানের হকিকত হচ্ছে তাজকিয়ায়ে নফস বা আত্মশুদ্ধি। তাজকিয়ায়ে নফস বা আত্মশুদ্ধি মানুষের জন্য এত প্রয়োজন যে, আল্লাহ কুরআনুল কারীমে তাঁর হাবীব সা.-কে প্রেরণের যে মূল উদ্দেশ্যগুরো বর্ণনা করেছেন এর মধ্যে তিনি আত্মশুদ্ধিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। রাসূল সা. আত্মশুদ্ধি অর্জনের জন্য সাহাবায়ে কেরামকে নামাজে খুশু-খুদু শিক্ষা দিয়েছেন। কুরআনুল কারীমের সূরা শামসে আল্লাহ তাআলা সাত জায়গায় কসম করে আত্মশুদ্ধিকে মানুষের সফলতার কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কোনও মানুষের অন্তক্ষরণ বিশুদ্ধ হলে সে সফলকাম হয়ে যাবে, আর অন্তক্ষরণ বিশুদ্ধ না হলে সে সফলকাম হতে পারবে না। সেজন্য তালামীযে ইসলামিয়ার কর্মীদের তাজকিয়ায়ে নফস বা আত্মশুদ্ধি অর্জনে গুরুত্বারোপ করা অত্যন্ত জরুরী।
তিনি বলেন, সুফিয়ায়ে কেরাম তাদের সুহবত ও নসীহতের দ্বারা মানুষকে হেদায়েতের পথ দেখিয়েছেন। হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) নির্বিশেষে সবাইকে বায়াত করাতেন। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি রহ. বলেছেন, কোনও মানুষকে যদি ফাসিক বা ফাজির ভেবে তাওবা থেকে বিরত রাখা হয়, এমন অবস্থায় যদি তার ইন্তেকাল হয়, তাহলে যার কাছে সে তাওবার জন্য গিয়েছিল, তাকে তাওবার সুযোগ না দেওয়ার জন্য তিনি দায়ী থাকবেন। সেজন্য আহলে তাসাউফের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, কোনও মানুষকে আগে তাওবার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির সুযোগ করে দিয়ে পরবর্তীতে তাকে ইসলাহ বা সংশোধন করার প্রচেষ্টা করা।
বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগরীর সদস্য স্তর উন্নয়ন পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ঈসায়ী, শুক্রবার, বিকাল ৩টা থেকে হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসা কনফারেন্স হলে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মনজুরুল করিম মহসিন।
সংগঠনের সিলেট মহানগর সভাপতি আরিফ হোসাইন সামাদ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এর সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা মো. কুতবুল আলম, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মোহাম্মদ নজমুল হুদা খান, হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা মারজানুর রহমান খান, সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মাহবুবুর রহমান ফরহাদ, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ, কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হুসাইন আহমদ, সাবেক মহানগরীর সাবেক সভাপতি মাওলানা এনাম উদ্দিন আহমদ।
প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সদস্য স্তর উন্নয়ন প্রত্যাশীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।





































