বুধবার , ০৮ জুলাই ২০২৬
Wednesday , 08 July 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

আমিনুল হক ওয়েছ

প্রকাশিত: ০৪:৫৯, ৭ জুলাই ২০২৬

ম্যানচেস্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’

ম্যানচেস্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’

ম্যানচেস্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’
আমিনুল হক ওয়েছ ,যুক্তরাজ্য : উত্তর ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে পঞ্চমবারের মতো ‘ইউরো বাংলা অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে গত ৫ জুলাই দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’। সংগঠনের সভাপতি কাজী লুৎফর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বকুলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এবারের মেলা আগের বছরের তুলনায় ছিল আরও বর্ণাঢ্য, আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ম্যানচেস্টারস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার জনাব জুবায়েদ হোসেন। এছাড়াও ম্যানচেস্টার সিটি কাউন্সিলের বিভিন্ন এলাকার কাউন্সিলরবৃন্দ, স্থানীয় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এবারের আয়োজন নিয়ে আমন্ত্রিত অতিথি ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের মাধ্যমে যেন প্রবাসের মাটিতে এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ ফুটে ওঠে। দিনব্যাপী গল্প, আড্ডা, আনন্দ-উল্লাস ও মিলনমেলায় মেতে ওঠেন বিভিন্ন শহর থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

সভাপতি কাজী লুৎফর রহমান বলেন, “এবারের বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব সফলভাবে আয়োজন করতে যাঁরা আমাদের সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় আয়োজনটি সফল হয়েছে।”

সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বকুল বলেন, “পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত এই বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবে সবার কাছ থেকে যে আন্তরিক সাড়া পেয়েছি, তাতে আমরা সত্যিই অনুপ্রাণিত। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে, আরও বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই উৎসব ধারাবাহিকভাবে আয়োজনের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

বাবু তুলসী চন্দ্র ভৌমিক, অপু চৌধুরী ও ইরফাত মিতুলের যৌথ সঞ্চালনায় এবং উস্তাদ নুরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক পর্ব ছিল দর্শকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। এতে সংগীত পরিবেশন করেন হাসি রানী, দীপালি সেন, দীপা ইসলামসহ আমন্ত্রিত ও স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ। আধুনিক বাংলা গানের পাশাপাশি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক গান পরিবেশন করে শিল্পীরা দর্শকদের মুগ্ধ করেন।

মেলায় ছিল দেশীয় ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ। বিভিন্ন স্টলে পরিবেশিত হয় মুখরোচক বাংলা খাবার, ঐতিহ্যবাহী পণ্য এবং লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন উপকরণ। ফলে উৎসবে আগত দর্শনার্থীরা প্রবাসের মাটিতেই যেন খুঁজে পান এক টুকরো বাংলাদেশ।

আয়োজকরা জানান, বৈশাখী মেলা কেবল একটি আনন্দ-উৎসব নয়; এটি বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক বিশ্বায়নের এই সময়ে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে এমন উদ্যোগের বিকল্প নেই বলেও তারা মনে করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক অভিভাবকও মত প্রকাশ করেন যে, প্রবাসে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা নববর্ষের ইতিহাস, বৈশাখের তাৎপর্য এবং বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এতে শিশুরা শুধু উৎসবের আনন্দই উপভোগ করে না, বরং নিজেদের শিকড়, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা ও গর্ববোধও গড়ে ওঠে।

আয়োজকরা আরও বলেন, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করতেও বৈশাখী মেলার ভূমিকা অনন্য। বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষকে একই ছাদের নিচে এনে এই আয়োজন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক সংস্কৃতি বহুজাতিক সমাজের কাছেও তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করে।

দিনব্যাপী প্রাণবন্ত এ আয়োজন আনন্দ-উচ্ছ্বাস, মিলনমেলা ও বাঙালিয়ানার এক অনন্য উদযাপনে পরিণত হয়। উৎসব শেষে উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীরা আয়োজকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রবাসের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালনে ‘ইউরো বাংলা অ্যাসোসিয়েশন’-এর এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও আয়োজকরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

আরও পরুন: