হাম প্রতিকার ও প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত একটি রোগ এবং এ রোগটি শিশুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে টিকা না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্করাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এই রোগটি মিজলস ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এটি মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারে।
হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এ রোগের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে অত্যতম হলোÑ উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি।
সাধারণত সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। প্রথমে মুখমণ্ডলে ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং পরে তা ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
হাম খুব দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম। আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কাশি বা হাঁচি দেয়, তখন বাতাসে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের সুস্থ ব্যক্তি শ্বাসের মাধ্যমে তা গ্রহণ করলে সংক্রমিত হয়।
এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির নাক-মুখের নিঃসরণ বা ব্যবহৃত সামগ্রী থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আক্রান্ত ব্যক্তি লক্ষণ প্রকাশের কয়েক দিন আগ থেকেই সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম।
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই; তবে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করা হয়। জ্বর নিয়ন্ত্রণে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যায়। রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে হয় এবং যথেষ্ট পরিমাণে তরল খাবার, যেমনÑ পানি, স্যালাইন ও স্যুপ গ্রহণ করা জরুরি। চোখ ও ত্বকের যত্ন নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়, যা জটিলতা কমাতে সহায়ক। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম প্রতিরোধের টিকা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
তাই শিশুকে নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, কাশি-হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা, নিয়মিত হাত ধোয়া, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং ঘরের বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা এসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত।
উপসংহারে বলা যায়, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও অবহেলার কারণে এটি এখনও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে রয়েছে। সঠিক সময়ে টিকাদান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এই রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে হামমুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।





































