২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ড্রোন কিনতে যাচ্ছে ভারত
ভারতের সামরিক সক্ষমতা জোরদারে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। ইউক্রেন, ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যাপক কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের সামরিক ড্রোন কেনার পরিকল্পনা করছে নয়াদিল্লি। বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ড্রোন ক্রয়াদেশ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই ক্রয় পরিকল্পনা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ড্রোন সরবরাহ শুরু হতে পারে। ‘ড্রোন ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া’র সভাপতি স্মিত শাহ জানিয়েছেন, এর আগে সরকার ৩ হাজার কোটি রুপির ট্যাকটিক্যাল ড্রোন কেনার অনুমোদন দিয়েছিল। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সেই পরিমাণ বেড়ে ২০০ বিলিয়ন রুপি বা ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।
স্মিত শাহের মতে, জরুরি সামরিক চাহিদা পূরণে এই বিশাল ক্রয়াদেশ দ্রুততর বা ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার চিন্তা করছে সরকার। যদিও এ বিষয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘটিত সংঘর্ষে প্রথমবারের মতো দুই দেশ ব্যাপক পরিসরে ড্রোন ব্যবহার করে। সেই অভিজ্ঞতা ভারতের সামরিক পরিকল্পনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। পাশাপাশি ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতগুলোও আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।
এর আগে মার্চ মাসে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২.৩৮ ট্রিলিয়ন রুপির একটি বড় প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিকল্পনা অনুমোদন দেয়, যার মধ্যে পরিবহন বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং সশস্ত্র ড্রোন অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সেখানে ড্রোন খাতে নির্দিষ্ট বরাদ্দের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইজি ডিফেন্সের নির্বাহী রমেশ চন্দ্র পাধি বলেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এখন শক্তি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উপাদান। সে কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্রুতগতিতে ড্রোন অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে জরুরি সংগ্রহ নীতি অনুসরণ করছে।
বর্তমানে ভারতে ৬০০-এর বেশি ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে শতাধিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রতিরক্ষা খাতে কাজ করছে। বড় শিল্পগোষ্ঠীর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপও নজরদারি, লজিস্টিকস, আত্মঘাতী ড্রোন এবং নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করছে।
দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির অংশ হিসেবে স্থানীয় ড্রোন উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্টার্টআপগুলোর জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়িয়ে ভারতের ড্রোন শিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।



































